নতুন করে ভাবতে হবে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নতুন করে ভাবতে হবে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০১৬

নতুন করে ভাবতে হবে: পর্ব-২৪

পর্ব-২৪


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গভর্নর ড. আতিউর রহমানের স্বদর্প পদত্যাগ, দু’জন ডেপুটি গভর্নরের অব্যাহতি এবং ব্যাংকিং বিভাগের সচিবকে ওএসডি করা- সবই পুরানো খবর। ইতোমধ্যে নতুন গভর্নর নিয়োগ হয়ে গেছে। আজই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ঘটনার দৃশ্যপটে অনেক কিছু এসেছে, তবে বেশীরভাই আসেনি। আমরা সবটুকু হয়ত কোনকালেই জানতে পারব না। কিছু কিছু বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে চির-কাল। বিদায়ী গভর্নর বলেছেন, তার এ বিদায় ‘বীরের বেশে, মাথা উঁচু করে’- অবাক হতে হয় তার এ বক্তব্যে! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেব তিনি ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন, তা ‘বীরের বেশে’ হয় কি করে? তিনি পদত্যাগ-পত্র জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে; এটাও এক বিষ্ময়! তিনি কি এটা করতে পারনে? প্রধানমন্ত্রীই বা তা গ্রহণ করেন কেন? প্রথমত অর্থ চুরির ঘটনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে না জানানো একটা অপরাধ; অবশ্য তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখেছেন, জানালে কি লাভ হত? দারুন কথা বলেছেন তিনি! দ্বিতীয়ত তিনি এমন দুঃসময়ে বিদেশ সফরে গেলেন, যদিও তিনি বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে জানিয়ে গেছেন। বুঝলাম তিনি অনুমতি নিয়ে গেছেন; তবে যাবার আগে তাদের এ বিষয়ে অন্ধকারে রেখে গেলেন কেন? এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল কি? পদত্যাগের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তার দেয়া বক্তব্যে এটা পরিষ্কার হয়েছে অর্থমন্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না বা তিনি অর্থমন্ত্রীকে ডিঙ্গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করতেন। প্রাকারন্তরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সখ্যতার কথাও বলেছেন। তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তাকে যুবকের মত ভাববার পরামর্শও দিয়েছেন- এটা কি এক ধরণের ধৃষ্টতা নয়। গভর্নরের নিয়োগ আসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে, এবং সকল প্রকার নিয়োগ হয় রাষ্ট্রপতির পক্ষে, পদত্যাগপত্রটাও সেখানেই যাওয়া উচিত ছিল না? ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেমনই থাক না কেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ড. আতিউর রহমান কি এ বিষয়ে অবগত নন? তিনি কি পারে নিয়ম ভাঙ্গতে! সফল রাজনৈতিক নেতার মত আবেগময় বক্তব্য দিয়ে তিনি যেভাবে ‘বীরের মত’ বিদায় নিলেন, তাতে প্রশ্ন জাগে- এমনটি কি আগামীতেও দেখতে হবে বাংলার সাধারণ জনতাকে?


১৮-০৩-২০১৬

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

নতুন করে ভাবতে হবে : পর্ব -২৩

পর্ব-২৩

ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সে দেশের ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক ফেলানীকে হত্যার অপরাধে ফেলানীর পরিবারকে পাঁচ লক্ষ রুপি প্রদানের সুপারিশ করেছে। পক্ষান্তরে ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেলানীর মৃত্যুর জন্য তার বাবাকে দায়ী করেছে। ঘটনার শেষ কোথায়, আমরা এখনও জানি না বা আন্দাজ করতে পারছি না। ইতোপূর্বে দুই দুই বার ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর আদালতে ফেলানী হত্যা মামলা থেকে আসামী- স্বীয় বাহিনীর সদস্য হাবলিদার অমিয় ঘোষককে অব্যাহতি দেয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে সে দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিএসএফ-এর নিয়ন্ত্রকারী ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এমন নির্দেশনা দিল। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে আবেদনরে জন্য বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে প্রশ্ন হলোÑ আমাদের দেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কি এমন সাহস দেখাবার সাহস রাখে? প্রসঙ্গত, ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) নামে একটি সংগঠন এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে একটি রিট আবেদন করে, যার শুনানীর দিন ধায় আছে অক্টোবরের ৬ তারিখ। এর আগেই ভারতীয় জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবী রাখে। তাদের এমন সিদ্ধান্তে এটা প্রমাণিত হলো, আসামী অমিয় ঘোষ নিরাপরাধ নয়। এখন ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের শুনানী ও তাদের সিদ্ধান্তর জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার সুপারিশকৃত পাঁচ লক্ষ রুপি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রত্যাখান করে ফেলানীর মা ন্যায় বিচার চেয়ে অপরাধীর বিচার চেয়েছেন। আমরা ফেলানীর মায়ের এই সৎসাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। একজন হতদরিদ্র মা তার মেয়ের জীবনের বিনিময়ে পাঁচ লক্ষ রুপির ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখান করে বীরত্বের পরিচয় দিয়ে অপরাধীর উপযৃক্ত বিচার চাইছেনÑ এটাই হল তাঁর ব্যক্তিত্ব।
এবারে অন্য প্রসঙ্গ। গত সপ্তাহে শরত কালের অকাল ও অতি বর্ষণে রাজধানী ঢাকা প্রায় অচল হয়েছিল। রাজপথসহ নগরীর অলি-গলি জলাবদ্ধতায় নতুন রেকর্ড করে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে নগরী প্রত্যক্ষ করে সীমাহীন যানজট। নগর জীবনে দুর্ভোগের নতুন মাত্রা যোগ হয়। নড়ে-চরে বসেন কর্তাব্যক্তিরা। মিডিয়ায় চলে ভ্যাপক প্রচারণা। মাথা ব্যাথা শুরু হয় সকলেরÑ তাহলে ঢাকা নগর কি পরিত্যক্ত হতে চলেছে! ঢাকায় যানজট নতুন কিছু নয়, তবে দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নিয়মিত খবর এটি। জলাবদ্ধতাও ঢাকায় একে-বারে নতুন নয়; তবে এবারে তা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। চারি-দিকে হৈ-হৈ রব উঠেছে। মনে হচ্ছে এবার এ সমস্যা সমাধানে কিছু একটা হবে। হওয়া দরকার; হতে হবে। প্রশ্নÑ দেশের উত্তরা-ঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বন্য পরিস্তিতি নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই কেন? প্রায় দুই মাস হতে চললো দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা যুবে আছে প্রবল বর্ষার পানি ও সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে। তাদের নিয়ে দু-একটা রিপোর্ট হলেও কর্তব্যক্তি পর্যায়ে কোন উচ্চবাচ্য শোনা গেল না, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা উর্ধতন কাউকে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করতে দেখা গেল না। তাহলে কি ওই সব আম-জনতা দেশের কেউ নয়, নাগরিক নয়। কেবল ঢাকায় বসবাসরতরাই দেশের নাগরিক! ওদের জন্য ভাববার কেউ নেই? অথবা ভাববর সময় নেই কারো?
এরই মধ্যে জনৈক মন্ত্রী জাতিকে সুখবর দিয়ে বললেন, দুনিয়ার সর্বত্র তেলের দাম কমলেও দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে এগিয়ে নেয়ার জন্য দেশের সার্থে তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। হায়রে কপাল!
একটা গল্প দিয়ে শেষ করছিÑ জমিদার নিজে অবাধ্য(!) প্রজাকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে লাঠি ভেঙ্গে ফেললেন। এরপরও রক্তাক্ত প্রজা বলছে: হুজুর আমাকে স্নেহ করেন বলে মেরেছেন, আমি ধন্য। আমি সুস্থ হয়ে যাব, তবে দুঃখ একটাই আমার মত পামরকে মেরে হুজুর তার এত্ত(!) দামী লাঠিটা ভেঙ্গে ফেললেন! তার মত দয়ালু জমিদার আর হয় না।
১১-০৯-২০১৫

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

নতুন করে ভাবতে হবে: পর্ব-২২

পর্ব-২২

শেষ হলো শারদীয়ার ১৯ বছরের পথচলা। চলতি সংখ্যাই শারদীয়ার ১৯ বছরের শেষ সংখ্যা। পরবর্তী সংখ্যা হবে ২০ বছরের প্রথম সংখ্যা। কেমন ছিল আমাদের এই দীর্ঘ পথচলা? হিসাবের খাতা মিলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অবিরত। বিগত শতকের নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি শুরু হয় শারদীয়ার যাত্রা। যাত্রাপথ যে মসৃন ছিল না, তা অকপটে স্বীকার করে নিচ্ছি। সদ্যজাত শিশুর পথচলা যেমনটি হয়, আমাদের অবস্থাও ছিল তেমনি। শারদীয়ার যাত্রার সময়টাতেই শুরু হয় অন্তর্জালের (ইন্টারনেট) দিগ্বিজয়ী অভিযাত্রা। সেই সাথে মুদ্রণ জগতের ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রাও ঘটে। সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে কম্পিউটার হয়ে ওঠে প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুরু হয় অনলাইন মিডিয়ার দিগ্বিজয়। বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের অভিযাত্রার শুরুটাও সে সময়ে। ফলত জনমানুষের কাছে সাপ্তাহিক পত্রিকা হয়ে ওঠে নিরানন্দের একটি উপকরণ। একটা সময় ছিল মানুষ কেবলই দৈনিক পত্রিকা নির্ভর ছিল; সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল সহযোগী- অবসর সময়ের সঙ্গী। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কারণে বিশ্বের বহু দেশের মত এদেশেও বেশ কয়েকটি দৈনিক বন্ধ হয়ে যায়। অনেকেই মুদ্রিত পত্রিকার পরিবর্তে অন্তর্জালের পত্রিকার (ওয়েব বেজড নিউজ পোর্টাল) ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন। তখন আমরা দেখতে পাই এক সময়ের জনপ্রিয় বাংলা সাপ্তাহিকগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানকালে যে সকল দৈনিক টিকে আছে দোর্দন্ড প্রতাপের সাথে, সবগুলোই কর্পোরেট ব্যবসার অংশ হিসেবে। এমনি বিশ্ব পরিস্থিতিতে একান্ত পেশাজীবীদের নিয়ে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ অব্যাহত রাখা নিদারুন এক কষ্টের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবু আমরা টিকে আছি- গতানুগতিক বংশ পরিচয় ধরে রাখার মত করে।
পত্রিকা প্রকাশের মূল চালিকাশক্তি বিজ্ঞাপন, যা আমরা কখনোই ন্যূনতম চাহিদা মোতাবেক পাই নি। সঙ্গত কারণে শারদীয়ার অবয়ব বলিষ্ঠ হয় নি। এরপরেও শারদীয়ার পাঠক-লেখকদের অব্যাহত ভালবাসায় আমরা অতিক্রম করেছি ১৯টি বছর। আগামী দিনগুলোতেও হয়তো এভাবেই পথ চলতে হবে। আশার কথা শারদীয়ার নিয়মিত পাঠক সংখ্যায় নগন্য হলেও দিনে দিনে বাড়ছে; বিশেষত সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গণে শারদীয়ার পদচারণা আগের থেকে অনেক বলিষ্ঠ নিঃসন্দেহে। সাহিত্য পরিসেবায় কাব্যলোক নিয়ে শারদীয়া এখন বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে। আমরা এখন গর্ব করে বলতে পারি, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ওয়েব বেজড পোর্টালের এই দারুন প্রতাপের মাঝেও পাঠক এখনও শারদীয়ার মত একরঙা পত্রিকা ‘গ্রাহক চাঁদা’ দিয়ে পড়ছেন। আমরা সাধুবাদ জানাই শারদীয়ার পাঠকদের। তাদের অকুণ্ঠ ভালবাসার জন্যই শারদীয়া এমন বৈরী পরিবশে টিকে আছে; থাকবে।
দলচর্চা এবং দলবাজীর যুগে থেকেও শারদীয়া এখনও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছে- এটাও তো কম কথা নয়। শারদীয়া এখনও জনতার কথা বলে, সাধারণ মানুষের কথা বলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। সরকার বা বিরোধী দল- কারোর লেজুরবৃত্তি না করে সকলের ভাল কাজের প্রশংসা করে এবং তাদের যে কোন মন্দ কাজের সমালোচনা করে। এখানেই শারদীয়ার পথচলা সার্থক।
শারদীয়া আরেকটি কাজ করে যাচ্ছে নীরবে- নতুন লেখক তৈরীর কাজ। আজ আমরা গর্বভরে বলতে পারি, শারদীয়ায় সাংবাদিকতার হাতেখড়ি নিয়ে অনেক মফস্বল সংবাদদাতা নিজ নিজ এলাকায় এখন সাংবাদিক নেতা। অনেকে নিজ এলাকায় প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। কেউবা নিজেই এখন মাসিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশক সম্পাদক। এটাই শারদীয়ার সব থেকে বড় প্রাপ্তি। সকলের ভালবাসা সাথে নিয়ে শারদীয়া আগামী দিনের পথচলা অব্যাহত থাকবে, এমনটা আশা আমরা করতেই পারি।
২৪-০৭-২০১৫


বুধবার, ১৩ মে, ২০১৫

নতুন করে ভাবতে হবে : পর্ব - একুশ

একুশতম পর্ব
 
দেশটাকে অকার্যকর প্রমানের জন্য সম্ভবত একটি গোষ্ঠী সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে আছে। আমার ধারণা স্বাধীনতার পর সব ক’টি সরকারেরই এমন ঘাপটিওয়ালারা ছিল। বঙ্গবন্ধু সরকারে যেমন ছিল মোশতাক গং তেমনি জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ও হাসিনা সরকারেও এরা ছিল এবং আছে বেশ সক্রিয়। বঙ্গবন্ধু ও জিয়া হত্যাকান্ডের দায় কতিপয় বিপথগামী সামরিক অসিফারের ঘাড়ে চাপানো হলেও সকলেই মানবেন এর পেছনে রাজনৈতিক অপদেবতারা কাজ করেছিল সক্রিয় ও অতি গোপনীয়তার সাথে। অতীতের কথা বলে লেখার পরিধি না বাড়িয়ে সা¤প্রতিক ঘটনাবলীর দিকে নজর দেই। হাসিনা সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ঝালকাঠীর কলেজ ছাত্র লিমনের ঘটনায় দায়ী র‌্যাব সদস্যদের শাস্তি দিলে বাহিনী হিসেবে র‌্যাবে সুনাম বাড়তো বই কমতো না, এ কথা তখনই  বলেছি। অতি সা¤প্রতিক বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নারী নির্যাতনের যে ঘটনা ঘটে গেল, আমার বিশ্বাস সরকার (বিশেষত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী) চাইলে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে পারতো। তা না করে কেউ কেউ দোষীদের রক্ষার কাজটিই করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। কেউবা বলেছেন- সে দিন এমন কোন ঘটনা ঘটে নি। বিষয়টা শেষ পর্যন্ত হাস্যকর হয়ে গেছে। এতে করে দায়ী ব্যক্তিদের সাহস আরো বেড়েছে এবং হয়তো এদরে এক সময়ে সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী অনুসারে নির্দিষ্ট সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আজো প্রকাশ করা হয় নি, বরং অন্যান্য ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পুরো দায় কথিত জঙ্গীবাদী বা মৌলবাদীদের কাজ বলে প্রচালনা চালানো হয়েছে। আমি মনে করি এতে ক্ষতি হয়েছে সরকারেরই। সেদিনে সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে একটি ছাত্র সংগঠন- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ডিএমপি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশ যেভাবে অ্যাকশনে নেমেছে, তাতে মনে হয়েছে তারা কোন জঙ্গী সংগঠনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। অথচ দেশের সকলেই জানে ছাত্র ইউনিয়ন দেশের সবগুলো ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে সুশৃংখল এবং ভদ্র। এক সময়ে এ সংগঠনকে বলা হতো ‘লিপস্টিক পার্টি’। ছাত্র ইউনিয়নকে ডিএমপি কমিশনার বরাবরে স্মারকলিপি দিতে দেয়া হলে কী ক্ষতি হতো পুলিশের? নিরস্ত্র ছাত্ররা পুলিশের সামনে এমন কি করতো যা পুলিশ বা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতো? বরং যে ঘটনা ঘটানো হলো, তাতে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হলো এবং নারী নির্যাতনের প্রতিকার চাইতে গিয়ে প্রকাশ্যে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হতে হলো নারীকেই; পুরুষরাও হয়েছে- সেটা অহরহ ঘটে বলে কেউ তেমন আমলে নেয় না। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে প্রকাশ্যে  পুলিশের হাতে ভার্সিটির ছাত্রী নির্যাতন বা লাঞ্ছনার ছবি কী বার্তা দিচ্ছে আমাদের? মডারেট গণতান্ত্রিক বাংলাদশে সম্পর্কে কী বার্তা গেল বহির্বিশ্বে? তবে কি পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কোন তফাত নেই? যদিও এ ঘটনায় দায়ী এক পুলিশ বরখাস্ত হয়েছে; প্রশ্ন বরখাস্তকৃত ওই কনস্টবল বা ল্যান্স নায়েক কি একাই এ ঘটনার জন্য দায়ী? তার কমান্ডে থাকা উর্ধতন কর্মকর্তার কি কোন দায় নেই? খুশী হতে পারতাম যদি ওই স্কোয়াডে থাকা কমান্ডারের (পদ/পদবী জানা নেই বলে এমনটি বলছি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো। বাংলাদেশের পুলিশ কি কখনো গণতান্ত্রিক দেশের পুলিশ হবে না? বাংলা নববর্ষের নারী লাঞ্ছনার ঘটনা মানুষ ক্রমে ভুলে যাবে, ভুলে যাবে পুলিশের নারী নির্যাতনের ঘটনা।

আমি মনে করি, সরকারের ভেতরে হয়তো বা কোন মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য আগ-বাড়িয়ে এমন সব ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরী করছে, যা হবে সরকারের জন্য বুমেরাং। তাই বলতে চাই সময় থাকতে সাধু সাবধান- ‘সময় গেলে সাধন হবে না’।
১৩-০৫-২০১৫

নতুন করে ভাবতে হবে- পর্ব কুড়ি

কুড়িতম পর্ব

বর্ষবরণে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় এলাকায় ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফলাফল আসবে না, তবে সচেতনতা বাড়েব। দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়া সত্তে¡ও এর আগে আমরা দেখেছি জাহাঙ্গীরনগরে সেঞ্চুরিয়ানদের। ১৯৭৩ সালের ঘটনা এ প্রজন্মের জানার কথা নয়। নব্বই দশকের ডাকসু নির্বাচন শেষে বিজয় মিছিলের ঘটনা অনেকেরই মনে আছে বা থাকার কথা। সকলের কাছে ‘বাধন’ ঘটনা এখনো উজ্জ্বল। ক·বাজার সৈকতে বিদেশী পর্যটকের স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা কারো কারো হয়ত মনে আছে। লক্ষ্য করুন, সব জায়গায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন এহেন অপকর্ম ঘটায়...। এবারেও কি ব্যতিক্রম? না, তা বলার সুযাগ নেই। ১৯৭৩ সালের ঘটনাটা বাদ দিলে দেখবো সবগুলো ঘটনার সময় দেশের প্রধান ব্যক্তি নারী। এসকল অঘটনপটয়সীদের পরিচয় ও শক্তি একটাই... ক্ষমতা....। এদের রাজনৈতিক অভিভাবকরা কখনও কি এদের নিবৃত করেছে বা করতে চেয়েছে? সেঞ্চুরিয়ানদের কি বিচার হয়েছিল? যদি হত, তাহলে পরের ঘটনাগুলা ঘটত না। একুশে বই মেলার ঘটনারও কোন বিচার হয় নি বা হতে দেয়া হয় নি। কারণ হিসেবে ভাবা যায়, লাঠিয়ালদের ‘লালন-পালনে’ তাদের রেহাই দেয়া হয় বা দিতে হয়। আগের দিনের জমিদার বা সামন্ত প্রভুরা যেমন করে লাঠিয়াল পালন করত। সমস্যা হলো, কেউ যদি “এদের” কথা সহস করে বলতে যায়, নন্দীর মত তার হাত ভাঙ্গবে, না ভাঙ্গলেও ভেঙ্গে দেয়া হবে। কোটি টাকা খরচ করে সিসি ক্যামেরা বসাবেন, কাজের সময় সকলে “ছি ছি” করবে, কাজের কোন কাজ হবে না, এটাইতো বাস্তবতা। প্রক্টর পিসিতে গেম খেলবেন এমন একটা বড় আয়োজনের সময়, ভাগ্যিস তিনি নিরোর মত বাঁশি বাজাচ্ছিলেন না। অবশ্য বাঁশি বাজালেও শোনা যেত না ভুভুজোলার কারণে।
কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, দাবী করছি:
- প্রক্টরের দায়িত্বে অবহেলার কারণে পদত্যাগ, না করলে বরখাস্ত।
- কর্তব্যরত পুলিশদের কর্তব্যে অবহেরার কারণে শাস্তি প্রদান।
- সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরধী সনাক্ত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা।
সবশেষে: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি কেবল সোনার ছেলেদের ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে আবারো ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে পদত্যাগ করবেন, না ওদের নিবৃত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন? ওদের লাগাম টেনে ধরুন না একটিবার, যাতে আরকেবার ওরা সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটাতে না পারে! আজ ক্ষমতায় বিএনপি থাকলেও আমি একথাই বলতাম তাদের নেতাকে।

দেশটা সকলের, কারো একার নয়, কোন দলেরও নয়। একথাটা মনে রাখলে “গণতন্ত্র” থাকবে, থাকবে সুন্দর বাংলাদেশ।
১৭-০৪-২০১৫

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৪

নতুন করে ভাবতে হবে - উনিশতম পর্ব

উনিশতম পর্ব

গত সপ্তাহে সুন্দরবনের ভেতরে শ্যালা নদীতে একটি তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ডুবে গেছে। নৌ-পথে নৌযান ডুবে যাওয়া নতুন কিছু নয়। এবারের ঘটনাটা একটু ব্যতিক্রমধর্মী। উপকূলবর্তী নোনা পানির পরিবেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অখন্ড ম্যানগ্রোভ বনভ‚মি হিসেবে পরিচিত এই সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌ-চলাচল নিষিদ্ধি। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো এ বনটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে। এর ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বিশেষ ও জরুরী প্রয়োজনে নৌ-যান চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল, যদিবা পরিবেশ মন্ত্রণালয় বহুবার সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌ-চলাচল বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।  কে শোনে কার কথা!  অবস্থা দৃষ্টে মনে হতে পারে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ‘একই বাড়ির দুই সতিন’। পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিবেশ রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে নৌ মন্ত্রণালয় মানুষের প্রয়োজনের কথা বলছে। শ্যালা নদীতে তেলবাহী জাহাজ ডুবে যাবার পর সম্প্রতি নৌ পরিবহন মন্ত্রী এমনটাই বলেছেন।
ঘটনার বর্ণনার কোন প্রয়োজন নেই, কেননা দেশবাসী, তথা বিশ্ববাসী ইতোমধ্যে পুরো ঘটনা জেনে গেছেন; তারা আরো জেনেছেন, সরকারী সংস্থাগুলো পানি থেকে তেল অপসারণে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় গতানুগতিক পন্থায় তেল অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিজিটাল যুগে আদী পন্থায় কাজ করাটা তেমন সুখের হবার কথা নয়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশবাদীদের ক্রমাগত আবেদন নিবেদন সত্তে¡ও কেন এবং কার স্বার্থে নিষিদ্ধ নৌপথে নৌ চলাচলের অনুমতি দিল, সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন  এবং বিস্ময়ও বটে! যেখানে সাধারণ নৌ চলাচল করার কথা নয়, সেখানে তেলবাহী জাহাজ কেন চলবে। বিকল্প পথ হিসেবে যে কোন সময়ে এ পথ ব্যবহৃত হতে পারে; এর অর্থ এই নয় যে, নিয়মিত রুট সংস্কারের কাজ না হওয়ায় ‘বিকল্প পথ’-ই হয়ে উঠবে নিয়মিত পথ। উপরন্ত জানা গেছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটি মূলত তেলবাহী জাহাজ নয়, ওটা ছিল মোডিফাইড জাহাজ। আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো- পরিবেশের জন্য মারাত্মক এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কোন কর্তাব্যক্তি ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করনে নি। পরিবেশ মন্ত্রী ঘটনার সয়ম পেরুতে পরিবেশ সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত। এমন একটা ঘটনা উন্নত বিশ্বের কথা বাদ দিয়েও বলা যায়, প্রতিবেশী ভারতে ঘটলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসতেন। আমাদের দেশে এমনটি হওয়ার কোন সুযোগ (!) নেই। নৌ পরিবহন মন্ত্রী তো  বলেই দিলেন বিশেষজ্ঞের মতো করে- ফার্নেস অয়েলে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না!
ঘটনার পর থেকে টেলিভিশন টক শো গুলোয় কথার ঝড় বইছে। নানান মুনির নানান মত। কেউ তীব্র ভাষায় সরকারের সমালোচনা করছেন, কেউ বা একটু নরম সুরে। তবে সকলেই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কথা মেনে নিচ্ছেন। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেদের গা বাঁচিয়ে কথা বলছেন। কথায় কথায় প্রধান-মন্ত্রীর তরিৎ সিদ্ধান্তে কথার রেফারেন্স দিয়ে নিজের চেয়ার ঠিক রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য নিয়মিত নৌপথ দ্রুত চালু করার তাগিদ দিয়েছেন, তবে সুন্দবনের ভেতর দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন নি; এমন কি এটি ব্যবহারে কৃচ্ছতা অবলম্বনের কথাও তারা বলছেন না।
সুন্দরবন- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে এর অংশ রয়েছে, সেখানে নৌ চলাচলের অনুমতি নেই; আমাদের এখানে থাকবে কেন? একশত নটিক্যাল মাইল ঘুরে যেতে হলে যে ক্ষতি হবে,  এ পথটি অবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া না হলে দেশের ক্ষতির পরিমান আরো বেশী হবে; তাই এ পথে অবিলম্বে নৌ চলাচল বন্ধ করা একান্ত জরুরী।
১৯-১২-২০১৪

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০১৪

নতুন করে ভাবতে হবে –অষ্টাদশ পর্ব

অষ্টাদশ পর্ব

গত সোমবার এলিট ফোর্স অধিনায়ক জানিয়েছেন এখন থেকে র‌্যাব নিয়মিত টহল দেবে না, কোন ধরণের তল্লাশী কাজে অংশ নেবে না। এমনকি দরপত্র বা· পাহারা, জমিজমা ও টাকা লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যা এবং পারিবারিক বিরোধ নিয়েও এখন থেকে ধরণের কর্মকান্ডে অংশ নেবে না র‌্যাব। ইতোমধ্যে র‌্যাবের প্রত্যেক ব্যাটালিয়নকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। র‌্যাব নির্ধারিত সাত মৌলিক কাজের বাইরে বা অন্য কোনো ধরণের বাড়তি কর্মকান্ডে অংশ নেবে না। র‌্যাবের সাত দায়িত্বের মধ্যে আছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত, সশস্ত্র জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আটক করা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ-বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সব ধরণের অবৈধ দ্রব্য উদ্ধার করা, অন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগহ করা, সরকারী নির্দেশে যে কোনো অপরাধের তদন্ত করা এবং যে কোনো ধরণের দায়িত্ব পালন করা। স্মরণ করা যেতে পারে, কিছুদিন ধরেই র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুম-অপহরণসহ নানা ধরণের অভিযোগ আসছিল। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের কয়কজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তগ্রহণ। এ নিয়ে র‌্যাবের মূল কাজের বাইরে অন্যান্য কর্মকান্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখী হয়। এর মধ্যেই র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাতটি মৌলিক কাজের বাইরে অন্যান্য বাড়তি কাজে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দেয়া হল। হঠাৎ করেই র‌্যাবের এমন সিদ্ধান্ত জনমনে আতংক সৃষ্টি করতে পারে। র‌্যাবের কেউ কেউ দুঃষ্কর্মে যুক্ত থাকলেও ফোর্স হিসেবে  র‌্যাব নিয়ে কেউ মেতন একটা নেতিবাচক কথা ঢালাও ভাবে বলেনি। র‌্যাবের কেউ যদি অপরাধের সাথে যুক্ত হয়, তার বিচার হবে নিয়ম মেনে; তবে কোন আইনে র‌্যাব সদস্যদের বিচার হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে র‌্যাবে সামরিক ও আধা ও বেসামরিক সদস্য রয়েছে। আগেই আমরা দাবী করেছি এ বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে। প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, বিডিআর বিদ্রোহের কারণে ঐ বাহিনীর নাম বদলে বিজিবি করা হয়েছে, এখানে যেন র‌্যাব বাদ দিয়ে ভিন্ন নামে এমন খিচুরী বাহিনী তৈরী করার ভাবনা মাথায় না আসে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সেনা বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট জাতির জনক ও তার পরিবারের হত্যার সাথে যুক্ত থাকায় ঐ সকল ইউনিট বিলুপ্ত করা হয়েছিল; বিডিআর এর ক্ষেত্রেও এমনটি হলে ভাল হত।  র‌্যাবের অপরাধী সদস্যদের বিচার সুষ্ঠু ভাবে করা হলে এবং সরকার আন্তরিক হলে র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রসঙ্গ আসতে পারে না। তবে র‌্যাবের গঠন প্রণালী ও কার্যাবলী নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে নিসন্দেহে। র‌্যাব যেহেতু পুলিশের একটি অংশ, নতুন ভাবনার সময় সেই বিষয়টি মনে রাখলেই হবে। র‌্যাব যেন কোনভাবেই মূল প্রতিষ্ঠান পুলিশের ওপর স্থান না পায়। বিশেষ বাহিনী হিসেবে র‌্যাবের কর্মযজ্ঞ হবে দ্রুত ও আধুনিক; তাই বলে পুলিশের প্যারালাল সংস্তায় যেন আত্মপ্রকাশের অবস্থানে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর যে অসহায়ত্ব ভাব জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই, সংসদীয় গণতন্ত্র মেনে দেশটাকে পুরো মন্ত্রি-পরিষদ শাসিত দেশে পরিণত করতে হবে। সকল কাজে প্রধানমন্ত্রীর একক নেতৃত্ব বা প্রাধান্য সরকারকে নির্বাচিত স্বৈরশাসকে পরিণত করতে বাধ্য। সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ইতিহাসের জঘন্যতম একনায়ক জার্মানীর হিটলার এবং ইতালীর মুনলিনিও ছিলেন জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত। ক্ষমতার একক কেন্দ্র বিন্দু পরিণত হয়ে তারা কাল-ক্রমে একনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। অতএব এক কথায় বলতে চাই, সাধু সাবধান!

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪

নতুন করে ভাবতে হবে - সপ্তদশ পর্ব

সপ্তদশ পর্ব 


সংসদে না থাকলেও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির প্রধান স¤প্রতি এলিট ফোর্স র‌্যাবের বিলুপ্তি দাবী করার পর থেকে এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক চলছে প্রতিনিয়ত। মনে রাখতে হবে র‌্যাব নামক বিশেষ এই বাহিনীর সৃষ্টি হয়েছিল সে সময়ের প্রধান-মন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতেই। এমনকি তিনিই র‌্যাবকে দিয়ে অপারেশন ক্লিন হার্ট করিয়ে এবং র‌্যাবকে দায়মুক্তি দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। র‌্যাব কি? এ প্রশ্নের উত্তরে সকলেই বলবেন, এটি একটি বিশেষ বাহিনী; যাকে এলিট ফোর্স বলা হয়। র‌্যাবের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্যানুসারে র‌্যাবের মিশন বা লক্ষ্য হচ্ছে: “সন্ত্রাস দমন ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা।” এবং ওই ওয়েবে ‘সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ শিরোনামে বলা হয়েছে: “বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি উন্নয়-নশীল দেশ। আমাদের উন্নতির পথে যে সকল বাধা বিপত্তি রয়েছে তার মধ্যে, অস্থিতিশীল আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অন্যতম। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে যখন সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ অনি-শ্চিয়তার মাঝে ভুগছিল, তখন পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষে্য যে সরকার একটি এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করে। ক্রমান্বয়ে সভা-সমন্বয়, আলোচনা ও গবেষণার পর সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সংক্ষেপে র‌্যাব ফোর্সেস নামে একটি এলিট ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গত ২৬ মার্চ ২০০৪ তারিখে জাতীয় স্বধীনতা দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জনসাধারনের সামনে আত্ম প্রকাশ করে। জন্মের পরপরই এই ফোর্সের ব্যাটালিয়ন সমূহ সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকে এবং স্ব স্ব এলাকা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এর মাঝে প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পায় ১৪ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান রমনা বটমূলে নিরাপত্তা বিধান করার জন্য। এরপর আবার র‌্যাব মূলত তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত ২১ জুন ২০০৪ সাল থেকে র‌্যাব ফোর্সেস পূর্ণাঙ্গভাবে অপারে-শনাল কার্যক্রম শুরু করে।”
‘দি আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ানস অর্ডিনসন্স ১৯৭৯’ সংশোধন করে ২০০৩ সালে জারি করা ‘দি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানস (অ্যামেন্ড-মেন্ট) অ্যাক্ট-২০০৩’ অনুসারে র‌্যাব ফোর্সেস প্রতিষ্ঠা করা হয়। আইন অনুসারে এই বাহিনী করা হলেও সাধারণভাবে বা সাদা চোখে এই বাহিনী একটি খিচুরি বাহিনী হয়ে আছে। আইন অনুসারে এই বাহিনীর কমান্ড করবে পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহা-পরিদর্শক। তাঁর অধীনে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার এমনকি কোস্টগার্ড থেকেও সদস্য নেয়ার বিধান রাখা হয়। সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন, বাকী সবগুলো ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অপরাধে সামরিক আইন রয়েছে। র‌্যাবে কর্মকালীন অপরাধে সেই সামরিক সদস্যের বিচার সামরিক আইনে হওয়ার কতটা সুযোগ রয়েছে, সেটা কি আইন প্রণয়নের সময় ভেবে দেখা হয়নি? মনে রাখতে হবে সামরিক বাহিনীর গোপনীয়তা বিশ্বজনীন; সেখানে বেসামরিক আইন প্রয়োগের সুযোগ নেই। তবে সেই সামরিক সদস্যকে দিয়ে কেন বেসামরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হলো  সে বা তারা সেখানেই যদি কোন অপরাধ করে, তাদের বিচার কেন গোপনে হবে। আমি মনে করি র‌্যাবের গঠণ প্রক্রি-য়াতেই ভুল ছিল; যা এখন সংশোধ করার সময় এসেছে। দু-চার জন র‌্যাব সদস্যের অপরাধের জন্য পুরো বাহিনী বিলুপ্ত করার কোন যুক্তি নেই। তবে এ বিষয়েও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, র‌্যাব যেহেতু পুলিশের একটি বিশেষ ব্যাটালিয়ান, সেহেতু র‌্যাবে কর্মরত সকলকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকেই কাজি করতে হবে এবং এই বাহিনীর সদস্যরা অপরাধ করলে বা অপরাধে যুক্ত হলে সকলের জন্য একই আইন প্রয়োগ করতে হবে। এবিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে সম্মান করার মত সাহস ও দক্ষতা দেখাতে হবে সরকারকে।

শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

নতুন করে ভাবতে হবে – ষোড়শ পর্ব

ষোড়শ পর্ব


আইন কি সবার জন্য সমান নয়? বাস্তবে যাই দেখা যাক না কেন আমাদের সংবিধান তাই-ই বলে। কেউ-ই আইনের উর্ধে নয়। যদিবা বৃটিশ ঔপনিবেশিক কাল থেকেই আমরা আইনের সমান প্রয়োগ দেখেছি- একথা হলফ করে বলা যাবে না। বৃটিশরা তাদের উপনিবেশ ধরে রাখার জন্য নানানভাবে আইনের অপপ্রয়োগ করেছে, আইনের ভাষায় শিশুকেও ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছে। পাকিস্তান আমলের বেশীরভাগ সময় স্বৈরশাসকরা তাদের প্রয়োজনে আইনকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত এইটুকু আশা করা হয়েছিল- বিদেশী শাসক বিদেয় হয়েছে, বাংলার মানুষ হয়তো আইনের শাসন পাবে। বান্তবে হলো উল্টো। দিন দিন আইনের শাসনের অপমৃত্যু প্রত্যক্ষ করতে থাকলো বাঙালী। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই এ ধারা চলে আসছে এবং ক্রমান্বয়ে এ অবস্থার অবনতি ঘটছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ক্রমাগত বেড়ে চলেছে আমাদের দেশে। আমরা এমন সরকারও প্রত্যক্ষ করেছি যারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে অভিযুক্তদের অব্যহতি দিয়ে আইন পর্যন্ত করেছে। তাহলে দেশের আমজনতার মতো করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে হয়, “যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ”।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত তিন সামরিক কর্মকর্তাকে অকালীর অবসরে পাঠিয়ে সরকার এক প্রকার স্বকার করেই নিয়েছে, অভিযুক্তরা অপরাধী। অবাক বিষয় হলো, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না এনে সকল সুবিধা দিয়ে অবসরে পাঠানো হয়েছে, যেমনটি পেয়ে থাকেন স্বাভাবিক নিয়মে যে সকল সরকারী কর্মকর্তা অবসরে যান। কথা উঠতে পারে, তারা সামরিক বাহিনীর সদস্য, তাদের বিচার হবে সামরিক আইনে। বিষয়টা তাতো নয়। তারা সামরিক সদস্য হলেও যে সংস্থায় থেকে তারা অপরাধ করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে বা সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়াধীন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী, এটির প্রধান বরাবরই পুলিশের লোক। মানুষ মনে করে, তাদের সিভিল আইনেই বিচার হওয়া উচিত। স্মরণযোগ্য, আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ও এনএসআই প্রধানকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ হত্যাকান্ডে যাদের অভিযুক্ত বলে সন্দেহ করে অবসরে পাঠানো হলো, তারা কি পূর্বোক্তদের থেকেও প্রভাবশালী- এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
দরিদ্র কলেজ ছাত্র লিমনের পা হারানোর ঘটনায় পুরো র‌্যাব দায়ী নয়, দায়ী দু-চার জন র‌্যাব সদস্য; তাদের ক্ষমতার অপ-ব্যবহারের যথাযথ বিচার হলে হয়তো আর কোন এমনতরো ঘটনা ঘটতো না। কেন জানি না কথিত দু-চার জন দোষী ব্যাক্তির পক্ষে নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মরিয়া হয়ে ওঠেন- তাদের বাঁচানোর জন্য!  কেন তারা পারেন না আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? কেন তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে ভয় পান? ঐ দু-চার জনের জন্য পুরো বাহিনীর গায়ে কালিমা লেপন হয়; যদিবা তা আইনের দ্বা প্রমানিত হয় না; তবু জনসমাজে সকলেই তা বিশ্বাস করেন। প্রশ্ন- দু-চার জন ব্যক্তির অপরাধের বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়িত্ব কেন পুরো বাহিনী নেবে? মনে রাখতে হবে দেশের সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী জনগনের করের টাকায় লালিত-পালিত হন। তারা সকলেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। প্রজাতন্ত্রের মালিক সাধারণ জনগণ; তাদের প্রতি ক্রমাগত অবিচার হতে থাকলে পরিনাম ভাল হবার নয়।
ক্ষমতায় থাকার জন্য আমাদের সরকারগুলো (অতীতের বা বর্তমানের) গণতান্ত্রিক ধারা অনুসরণ করেছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। ‘দলের চেয়ে দেশ বড়’ বলা হলেও বরাবরই বাংলাদেশ দেখেছে, দল কতটা বড় হয়ে আছে দলীয় প্রধান বা শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের কাছে; এ ধারার পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সরকারকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে সকলের আগে।